সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:১০ অপরাহ্ন

স্বাগতমঃ-
দৈনিক টেকেরহাট পত্রিকার ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম মাদারীপুর এবং পার্শ্ববর্তী জেলার সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
সর্বশেষ সংবাদঃ-
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মাদারীপুর জেলা আওয়ামীলিগের বর্ধিত সভা সম্পন্ন । রাজৈরে কলেজ শিক্ষকের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে মানববন্ধন মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে শিবচরে আনন্দ র‌্যালী ও আলোচনা সভা মাদারীপুরে ট্রাকের চাপায় শিশু নিহত মাদারীপুরে আনন্দ র‌্যালী ও আলোচনা সভা মাদারীপুরে র‌্যাব ৮ এর অভিযানে বিপুল পরিমান মাদকসহ ওয়েলকাম পার্টির এক সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান উপলক্ষে,রাজৈরে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত (ভিডিও সহ) স্বল্পোন্নত দেশের স্ট্যাটাস হতে বাংলাদেশের উত্তরনের যোগ্যতা অর্জনের ঐতিহাসিক সাফ্যল্য নিয়ে জেলা প্রশাসনের সংবাদ সম্মেলন (ভিডিও সহ) শিবচরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড, ৪ টি ড্রেজার ধ্বংশ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত
ইতিহাস ও নীতি নৈতিকতা প্রসঙ্গ বেনজীর আহম্মদ টিপুর ‘মুক্তিযুদ্ধে মাদারীপুর’- গোলাম মাওলা আকন্দ

ইতিহাস ও নীতি নৈতিকতা প্রসঙ্গ বেনজীর আহম্মদ টিপুর ‘মুক্তিযুদ্ধে মাদারীপুর’- গোলাম মাওলা আকন্দ

Untitled-2

“বাঙ্গালীরা জন্মালেই কবি, হাটতে শিখলেই ইতিহাসবিদ” মনিষীরা অত্যুক্তি করেন নি। ভূয়া ইতিহাসবিদদের অন্ত নেই। এই ইতিহাস লেখার জন্য গবেষনা, অধ্যয়ন কোন কিছুরই এদের কাছে দরকার নেই। ‘কান কথা,শোনা কথা ইত্যাদি নিয়ে তারা ইতিহাস লেখেন।
আমাদের একজন শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক বেনজীর আহম্মদ টিপু ‘মুক্তিযুদ্ধে মাদারীপুর’ নামে সম্প্রতি একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। এই বইটিতে তিনি আমার প্রসঙ্গে যা লিখেছেন তা কান কথা বা শোনা কথার উপর নির্ভর করে লিখেছেন। কোন তথ্য প্রমান ব্যতিরেকেই একজনের কথায় উনি আমার বিরুদ্ধে ইতিহাস রচনা করলেন,যে ব্যক্তিটি আমার সম্পর্কে বললেন তার সাথে তো আমার যে কোন প্রকারেই হোক সম্পর্কের অবনতি বা বিরোধ থাকতেই পারে। ২০০০ সাল থেকে আমি দেশের প্রথম শ্রেনীর একটি পত্রিকা ‘দৈনিক যুগান্তর’ ও তার অব্যবহিত পর থেকে একটি টেলিভিশন মিডিয়ায় আমি কাজ করছি। পেশাগত কারনে আমার সাথে প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে অনেকের বিরোধ সৃস্টি হতেই পারে। আমি সত্যি কথা লিখলে বা প্রচার করলে কারো না কারো বিপক্ষে তো তা যাবেই।
‘মুক্তিযুদ্ধে মাদারীপুর’ গ্রন্থের মুখবন্ধে বেনজীর আহম্মদ লিখেছেন,‘আমার নিজ জেলা মাদারীপুর নয়। বাগেরহাট। অনেকের তাই প্রশ্ন, আমি মাদারীপুরের লোক না হয়েও কেন মাদারীপুরের ইতিহাস লিখতে গেলাম। প্রশ্নটা সঙ্গত হলেও আমার জন্য তা বিব্রতকর। স্বীকার করি, মাদারীপুরের সাথে যাদের নাড়ির সম্পর্ক তাদের কেউ লিখলেই ভাল হতো। প্রানরস মিশে থাকত সে লেখার সঙ্গে। বাস্তব অভিজ্ঞতালদ্ধ তথ্য উপাত্ত হত জীবন্ত। একাত্তরে মাদারীপুরে মুক্তিযুদ্ধ আমি দেখিনি। কিন্ত তখন যারা মাদারীপুরের মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন, করেছেন তাদের কথা রেকর্ড করে, এ যাবৎ প্রকাশিত সকল তথ্র নিয়ে এই গ্রন্থ রচিত হয়েছে’। লেখক বেনজীর আহম্মদ অবশ্য মুক্তিযুদ্ধের সময় যে তার বয়স ছিলো মাত্র আট বছর তা তিনি মুখবন্ধে লেখেন নি।
ইতিহাস রচনার দুটি উৎস। একটি হচ্ছে দলিল দস্তাবেজ অন্যটি হলো অংশগ্রহনকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য বা তাদের স্মৃতিকথা। এর কোনটিই এককভাবে ইতিহাস তৈরি করে না। কিন্তু এই দুই বিষয়বস্তুর সার সংগ্রহ ও সংকলন করেই ঐতিহাসিকরা ইতিহাস রচনা করেন। এটা ইতিহাসবিদের তথা গবেষকদের কাজ। ঐতিহাসিক বা ইতিহাসবিদদের কাজ হচ্ছে ওই দুটি উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যকে ঝালিয়ে দেখা,নতুন উৎসের অনুসন্ধান করা এবং কোন কিছু নজর এরিয়ে গেছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। কোন ঘটনারই একটি মাত্র উৎস থাকে না,ইতিহাসবিদদের কাজ হচ্ছে বিভিন্ন বয়সে শোনা এবং তার সামঞ্জস্য বিচার করা।
আমার সম্পর্কে একজন বললেন ‘গোলাম মাওলা স্বাধীনতার বিপক্ষের সংবাদগুলো পত্রিকায় প্রকাশ করে’। একাত্তর সালে রেডিওতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র শুনতে বাঁধা দেয়ায় এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অশোভন মন্তব্য করায় সাংবাদিক গোলাম মাওলাকে তাঁর বংশীয় চচাত ভাইয়েরা মাচা বা জাংলার বাশ দিয়ে পিটায়’। ব্যস এই কান কথা শুনেই একজন কলেজ শিক্ষক তথা ইতিহাসবিদের বিশ্বাস হয়ে গেল,আর সংগে সংগে ইতিহাস লেখা হয়ে গেল। টিপু সাহেবকে বলি ইতিহাস লেখাকি এতই সহজ ? যদি এতই সহজ হতো তা হলে নবাব সিরাজদ্দৌলাকে ইংরেজদের ভাড়াটিয়া বাঙ্গালি ইতিহাসবিদদের ছড়ানো কালিমা থেকে মুক্ত করতে অক্ষয় কুমার মৈত্রয়কে একযুগ ধরে নিরন্তর গবেষনা ও তথ্যানুসন্ধান করতে হতো না। অক্ষয় কুমার কানকথা শুনে ইতিহাস লেখেন নি। কান কথা শুনে ইতিহাস লেখা যায় না। একজন ব্যক্তির কথা শুনে বেনজীর আহম্মদ আমার সম্পর্কে ইতিহাস রচনা করে ফেল্লেন।
বেনজীর আহম্মদ তার বইতে বন্ধুবর মাননীয় সংসদ সদস্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে মাদারীপুর গ্রন্থের পান্ডুলিপি তিনি আদ্যপান্ত পড়ে দেখেছেন। প্রয়োজনীয় তথ্যগত সংশোধনী ও সংযোজনী দিয়ে গ্রন্থটিকে উৎকর্ষ করেছেন।’ মাননীয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রী সম্পর্কে বেনজীর আহম্মদ এর বক্তব্য আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য না হলেও আমি তা খন্ডাতে চাই না। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সংশোধনী সংযোজনীর কথা বলে লেখক সত্য প্রকাশের বড়াই করেছেন। কিন্তু এই সত্য জানার জন্য বিন্দুমাত্র সত্যানুসন্ধান ও তথানুসন্ধান বেনজির সাহেব করেন নি বলে আমার বিশ্বাস।
জনাব বেনজীর আহম্মদের ইতিহাস রচনা নিয়ে সমালোচনা করার ধৃস্টতা আমার নেই, তবে আমার সাথে সাথে যারা বইটি পড়বেন তারা হয়তো অনুভব করতে পারবেন শুধু কান কথা নিয়েও নয় যে কোন কারনে আমার উপর নাখোশ হয়ে উনি আমাকে নিয়ে ইতিহাস লিখেছেন। এ প্রসঙ্গে আমি উল্লেখ করতে চাই,বইতে ১৮৬ ও ১৮৭ পৃষ্ঠায় মাদারীপুর সদর থানার ‘শান্তি কমিটি’র যে তালিকাটি প্রকাশ করেছেন তাতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার মরহুম পিতার নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। তালিকায় সদর থানা শান্তি কমিটির যে ৪৭ জনের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে ৪৬ জনই মাদারীপুর শহরের বাসিন্দা ছিলেন,শুধুমাত্র আমার পিতার নামটিই মাদারীপুর শহরের বাইরের ও গ্রাম পর্যায়ের। তালিকাটি আমি চ্যালেঞ্চ করছি,মাদারীপুর সদর থানা শান্তি কমিটিতে আমার পিতার নাম ছিলো না। এছাড়াও শান্তি কমিটির মাদারীপুর সদর, কালকিনি, রাজৈর ও শিবচরের যে তালিকা বইটিতে প্রকাশ করা হয়েছে তাতে শান্তি কমিটির কোন সদস্যের সন্তানদের বিষয়ে বইতে বিশেষ কোন উদ্বৃতি বা নোট দেওয়া হয়নি। বেনজীর আহম্মদ তালিকার তথ্যপ্রমান না থাকলেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে সদর থানার শান্তি কমিটির তালিকায় আমার মরহুম পিতার নাম যুক্ত করেই ক্ষান্ত হন নি,ধৃস্টতা দেখিয়ে তালিকার নীচে নোট দিয়ে আমার নামে মিথ্যা,বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করেছেন। আমি সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হই ‘দৈনিক যুগান্তরে’র মাধ্যমে ১৯৯৯ সালে অথচ উনি লিখেছেন ‘আমি স্বাধীনতার বিপক্ষের সংবাদগুলো পত্রিকায় প্রকাশ করি’। এ ছাড়াও আমার সম্পর্কে লিখতে গিয়ে বিবেক বর্জিত ভাষা ব্যবহার করতেও তিনি দ্বিধাবোধ করেন নি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




উন্নয়ন সহযোগীতায়ঃ- সেভেন ইনফো টেক