শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ০৫:০৪ অপরাহ্ন

স্বাগতমঃ-
দৈনিক টেকেরহাট পত্রিকার ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম মাদারীপুর এবং পার্শ্ববর্তী জেলার সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
সর্বশেষ সংবাদঃ-
রাজৈরে কলেজ শিক্ষকের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে মানববন্ধন মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে শিবচরে আনন্দ র‌্যালী ও আলোচনা সভা মাদারীপুরে ট্রাকের চাপায় শিশু নিহত মাদারীপুরে আনন্দ র‌্যালী ও আলোচনা সভা মাদারীপুরে র‌্যাব ৮ এর অভিযানে বিপুল পরিমান মাদকসহ ওয়েলকাম পার্টির এক সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান উপলক্ষে,রাজৈরে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত (ভিডিও সহ) স্বল্পোন্নত দেশের স্ট্যাটাস হতে বাংলাদেশের উত্তরনের যোগ্যতা অর্জনের ঐতিহাসিক সাফ্যল্য নিয়ে জেলা প্রশাসনের সংবাদ সম্মেলন (ভিডিও সহ) শিবচরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড, ৪ টি ড্রেজার ধ্বংশ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত শ্রীনদীতে ধর্ষণ মামলার স্বাক্ষীরাই মামলার বিষয়ে জানেন না,মিথ্যা মামলায় গ্রামছাড়া আসামীর পরিবার
শ্রীনদীতে ধর্ষণ মামলার স্বাক্ষীরাই মামলার বিষয়ে জানেন না,মিথ্যা মামলায় গ্রামছাড়া আসামীর পরিবার

শ্রীনদীতে ধর্ষণ মামলার স্বাক্ষীরাই মামলার বিষয়ে জানেন না,মিথ্যা মামলায় গ্রামছাড়া আসামীর পরিবার


2830

রাজৈর নিউজ ডেক্সঃমাদারীপুর সদর উপজেলার শ্রীনদী গ্রামে ১৯ ফেব্রয়ারী সোমবার কথিত ধর্ষনের ঘটনায় জোসনা বেগম(৩২) বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে স্থানীয়দের মাঝে ঘটনাটির সত্যতা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা। প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে কেউ কোন তথ্য দিতে পারেনি। তাছাড়া ডাক্তারী রিপোর্টেও ধর্ষনের কোন আলামত পাওয়া যায়নি । তবুও গ্রাম্য রাজনীতির প্রভাবে ছোট শিশুকে ধর্ষিতার খাতায় নাম লেখাতে হয়েছে । আর মিথ্যা এ ঘটনায় মামলার কারনে গ্রাম ছাড়া হয়েছে অভিযুক্ত দেলোয়ারের পরিবার। নিজ ঘর ও দোকানে লাগানো রয়েছে বড় বড় তালা।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায় , মামলার আসামী দেলোয়ার মাতুব্বর একজন টেইলার। তার কাছে জামাকাপড় বানাতে দেয় বাদীর ছেলে জসীম। সময়মত জামাকাপড় না দেয়াকে কেন্দ্র করে ১৮ ফেব্রয়ারী সকালে আসমীর সাথে জসিমের হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার সমাপ্তি সেখানেই হয়ে যায়। পরের দিন জানা যায় বাদীর ৮ বছরের মেয়েকে ধর্ষনের অভিযোগে শ্রীনদী গ্রামের মৃত সাত্তার মাতুব্বরের ছেলে তিন সন্তানের জনক দেলোয়ার মাতুব্বরকে(৫০) কে আসামী করে মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে ব্যাপারটি স্থানীয়দের মাঝে জানাজানি হয়ে যায়। তার পরে শুরু হয় নানা টালবাহানা। বিচারের দাবিতে হয় মানববন্ধন। মামলায় অভিযুক্ত হয়ে লাজে ও ভয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে আসামী ও তার পরিবার। আসামীর এক সন্তানকে বিয়ে দিলেও অন্য দুই সন্তান পড়াশুনা করতে পারছে না মামলার ভয়ে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। । তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক প্রতিবেদন দাবি এলাকাবাসীর।

Rajoir news SUBSCRIPTIONS logo

এদিকে বাদীর স্বজনেরা জানান, মামলার বাদীর এজাহারে উল্লেখিত বর্ননার সাথে আনুষঙ্গিক বিভিন্ন প্রমানের কোন মিল না থাকার কারনেই তারা স্বীকার করে যে ধর্ষনের চেষ্টা মামলা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু ভুল হয়ে গেছে। গ্রামের কিছু মানুষের কথায় ধর্ষনের মামলা করাটা ভুল হয়েছে। আমাদের যতটুকু জানা সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে। ধর্ষন হয় নাই।

গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, দেলোয়ার ৩ সন্তানের জনক। তার বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছে সেই ঘরে ৭বছর বয়সের জুই নামে এক নাতি রয়েছে। সে এরকম কাজ করতে পারে না। এ রকম কোন ঘটনা আমাদের জানা নাই।

আসামী দেলোয়ারের বড় মেয়ে আখী জানান, তারা মিথ্যা একটা মামলা দিয়ে আমাদের মান সম্মান নস্ট করেছে। যে মেয়ের কথা বলা হয়েছে তার মত আমার একটি মেয়ে আছে। আমি মামলাটির সঠিক তদন্ত চাই। আর এরকম ঘৃনিত কোন কাজ আমার বাবা করে নাই। আমার বাবা যে দোকানে কাজ করে তাতে কোন আলাদা রুম নেই। তাছাড়া দোকানটি আমাদের ঘরের সামনে রাস্তার পাশে।

ইশিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, কাওছার মাস্টার ও একই এলাকার সদর থানা আওয়ামীলীগের একজন সদস্য মিন্টু হাওলাদার জানান, এলাকায় ধর্ষনের কোন ঘটনা ঘটে নাই। শুনেছিলাম দেলোয়ার এর সাথে শার্ট তৈরি নিয়ে জসিম নামে একটি ছেলের হাতাহাতি হয়েছে। তাকে আমাদের এখানের স্থানীয় ডাক্তার বাড়ীতে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েও আসছে। তখন মেয়েটি খেলা করতে ছিল বলে আমরা জানি। আর মামলায় বলা হয়েছে ছোট শিশুটিকে ধর্ষন করা হয়েছে সকাল ১০টার দিকে। সকালে শুনলাম মেয়ের ভাইয়ের সাথে হাতাহাতি হয়েছে। আর সন্ধ্যায় শুনলাম ছোট ঐ শিশুটিকে বয়স্ক লোকটি ধর্ষন করেছে। এটা কিভাবে সম্ভব।

স্থানীয় চিকিৎসক রেজাউল ইসলাম জানান, আমি যখন জসিমের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে যায় তখন সেই মেয়েটিকে স্বাভাবিকভাবে হাটাচলা করতে দেখি। তখন জানতাম না কি হয়েছে। আমাকে একধিক বার ফোন দিয়ে বাড়ীতে নিয়েছে। আমি মেয়েটির ভাই জসিমের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চলে আসি। আর কোন বিষয় জানিনা ।

এদিকে মামলার ২নং স্বাক্ষী সিরাজ বেপারী জানান, আমি কোন মিথ্যা স্বাক্ষী দিতে পারবো না। আমাকে এ মামলার স্বাক্ষী করা হয়েছে আমি জানিই না। আমার অনুমতি ছাড়া কেন আমাকে স্বাক্ষী করা হল। আমি এ ঘটনার কিছুই জানিনা।

অপর দিকে মামলার ৩ নং স্বাক্ষী রোকন বেপারী ছবি তুলতে বা ভিডিও করতে নিষেধ করেন এবং বলেন আমি কখনই ছবি তুলিনা। ধর্মের বিধি নিষেধ মেনে চলতে চেষ্টা করি। আর এই মামলায় আমাকে স্বাক্ষী করা হয়েছে তা আমি আগে জানতাম না। পরে মানুষের কাছে শুনেছি। আমি কোন মিথ্যা কথা বলতে পারবো না। যে ঘটনা আমার জানাই নাই তার কি বলবো। কোর্টে গিয়ে স্বাক্ষী দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাওয়া লাগলে যাব এবং সত্য কথাই বলবো।

এ ব্যপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা ইনস্পেক্টর দুলাল চন্দ্র সরকার জানান, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক প্রতিবেদন দেয়া হবে।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) উত্তম প্রসাদ পাঠক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি বিস্তারিত জেনে নিয়ে সঠিক প্রতিবেদন দেয়ার ব্যবস্থা করবো, যাতে নিরপরাধ ব্যাক্তিরা ভোগান্তির স্বীকার না হয়।

Rajoir news SUBSCRIPTIONS logo

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Development By:- 7 INFO TECH