অপরাধ ঢাকতে শেখ হাসিনা একাডেমি এন্ড উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষের লংকাকান্ড

অন্যান্য কালকিনি ডাসার বিশেষ সংবাদ

jakia20161017184206

বেলাল রিজভী:বাংলায় একটি কথা প্রচলন আছে ‘চুরি তো চুরি তার উপর ছিনাজুড়ি’। তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে মাদারীপুরে। অবৈধভাবে ডিকে আইডিয়াল আতাহার আলী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে এক শিক্ষককে নিয়ে প্রবেশ করে সরকারি শেখ হাসিনা একাডেমি এন্ড উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ জাকিয়া সুলতানা। যেহেতু সে নিজেই একটি কেন্দ্রের দায়িত্বে আছেন তার উপর ডিকে আইডিয়াল আতাহার আলী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে তার কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে তাই এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অবিভাবক ও সুধীজনদের মাঝে। তারা অভিযোগ করেন, প্রতিবছরই ডিকে আইডিয়াল আতাহার আলী কলেজে সরকারি শেখ হাসিনা একাডেমি এন্ড উইমেন্স কলেজের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র পরে। অধ্যক্ষ জাকিয়া সুলতানা নিজে ও শিক্ষকদের কেন্দ্রে প্রবেশ করিয়ে তার শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করে আসে। এ বছরও একই ঘটনা ঘটায় ক্ষুব্দ হয়ে উঠে অবিভাবক ও সুধীজনরা। সংবাদ পেয়ে সংবাদকর্মীরাও ঢাকার ও জেলা শহরের সংবাদপত্রে এ বিষয়য়ে সংবাদ প্রচার করে। সংবাদ প্রচারের পর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ২০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এনে প্রচারিত সংবাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কাছে স্বারকলিপি প্রদান করে। তার কর্মকান্ডে আর একটি প্রবাদও মিলে যায়। তাহলো, ‘চোরের মার বড় গলা’।

রবিবার অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ডাসার সরকারি শেখ হাসিনা একাডেমি এন্ড উইমেন্স কলেজের পরীক্ষার কেন্দ্র ছিলো ডিকে আইডিয়াল আতাহার আলি কলেজ কেন্দ্রে। রবিবার পরীক্ষা চলাকালে ডাসার সরকারি শেখ হাসিনা একাডেমি এন্ড উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ জাকিয়া সুলতানা এবং একই কলেজের শিক্ষিকা মার্জিয়া আক্তার নিয়ম ভঙ্গ করে ডিকে আইডিয়াল আতাহার আলি কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশ করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও অভিবাবক অভিযোগ করে বলেন, নিয়ম ভঙ্গ করে ডিকে আইডিয়াল আতাহার আলি কলেজে প্রবেশ করে জাকিয়া সুলতানা তার কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর সমাধান করে দেন।

বিষয়টি স্বীকার করে ডিকে আইডিয়াল আতাহার আলি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ মমতাজ বেগম ঐ দিনই সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেসকল শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয় তাদের শিক্ষক-শিক্ষিকা বা অভিবাবকদের প্রবেশ করার নিয়ম নেই। কিন্তু জাকিয়া ম্যাডাম নাকি ইউএনও স্যারের অনুমতি নিয়ে আমাদের কলেজে প্রবেশ করেছিলেন। ইউএনও স্যার অনুমতি দিলে তো আমাদের করার কিছু নেই।

ডাসার সরকারি শেখ হাসিনা একাডেমি এন্ড উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ জাকিয়া সুলতানা সংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডিকে আইডিয়াল আতাহার আলি কলেজ কেন্দ্রে যাওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, তিনি একা একা কোথাও যান না। তাই সঙ্গে শিক্ষিকাকে নিয়ে গিয়েছিলেন।

কালকিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) প্রমথ রঞ্জন ঘটক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেসকল শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয় তাদের শিক্ষকদের প্রবেশের নিয়ম নেই। তবে প্রবেশপত্রের জটিলতার কথা বলে অধ্যক্ষ আমার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করেছিল। অন্য শিক্ষিকার প্রবেশ করার কথা নয়।’

এতকিছুর পরও সরকারি শেখ হাসিনা একাডেমি এন্ড উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ জাকিয়া সুলতানা এ সংবাদের বিরুদ্ধে এবং বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করছেন। তিনি নিজের অপরাধ ঢাঁকতে সংবাদকর্মির উপর ইভটিজিং এর অভিযোগ আনার চেষ্টা করছেন। তার এধরণের ধৃষ্টতায় হতবাগ সাংবাদিক মহল। তিনি যে অপরাধ করেছেন ও সংবাদিকদের অপদস্ত করার যে হীন চেষ্টা করছেন তার বিচার দাবি করেছে সিনিয়র সাংবাদিকরা। অন্যথায় সাংবাদিকরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

Madaripur tv icon

প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মাওলা আকন্দ বলেন, জাকিয়া সুলাতানা আইন ভঙ্গ করে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন। তিনি প্রায় প্রতিবছরই এরকম আইন ভঙ্গ করে থাকেন। তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের মানসম্মান ক্ষুন্ন করার উদ্যেশ্যে ছাত্রীদের ব্যবহার করে মুল ঘটনাকে ভিন্নখাটে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনায় জড়িত জাকিয়া সুলতানাসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। জাকিয়া সুলতানা মিথ্যা অভিযোগ এনে সাংবাদিকদের কন্ঠরোধের চেষ্টা করছেন। জাকিয়ার শাস্তি না হলে আমরা আগামীতে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ বা স্বারকলিপির ব্যাপারে কিছুই জানেন না জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, যেহেতু আমি ঐ কলেজের সভাপতি তাই কিছু করার আগে আমাকে অবহিত করতে হবে। কিন্তু কেন আমাকে জানানো হয়নি সে বিষয়য়ে আমি জানি না। আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখব এবং কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *