রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানান সমস্যায় জর্জরিত

অন্যান্য বিশেষ সংবাদ রাজৈর

Hospital pic
মোঃ ইব্রাহীমঃমাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানান সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। নামেই ৫০ বেড হাসপাতাল, কাজে তেমন কিছু নেই। ৫০ বেডের ভবন থাকলেও সেখানে কার্যক্রমের নেই অনুমোদন ও লোকবল। ৩১ বেডের লোকবল দিয়েই চলছে ৫০ বেডের হাসপাতাল । সেখানেও পিছু লেগে আছে বিপত্তি । ৩১ বেডেরও লোকবল সংকট রয়েছে । এর মধ্য দিয়েও কোন কোন কর্মচারী প্রেষনে কাজ করছে অন্যত্র । মাসে একবার এসে বেতন নিয়ে যায় এ হাসপাতাল থেকে । এ যেন কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই অবস্থা। ফলে লোকবল সংকট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ আনুষঙ্গিক সরমঞ্জাদির অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রাজৈর উপজেলাবাসীসহ পার্শ^বর্তী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের লোকজন। এর পরেও এ প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে প্রতিদিন আউটডোরে ২০০/২৫০ রোগী ও ইনডোরে ৬০/৮০ জন রোগীর চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসকরা । রাজৈর স্বাস্থ্য বিভাগে মোট ১৬৪ টি পদ থাকলেও পদায়ন আছে মাত্র ১২৫টি, বাকী ৩৯ টি পদ রয়েছে শূন্য। ঔষধ সংকটতো লেগেই আছে। ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজিয়ে ওঠায় ক্লিনিকগুলিতে ও বিভিন্ন ফার্মেসীতে ভুয়া ও নিম্মামানের ডাক্তারদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে রোগীরা প্রতিনিয়তিই প্রতারনার শিকার হচ্ছে। মুলত নানা সমস্যায় জর্জরিত রাজৈরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থারই চিকিৎসা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে সচেতন মহল অভিমত ব্যক্ত করেন ।

অফিস সুত্র ও ডাক্তারদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, প্রায় ৭মাস যাবত আবাসিক মেডিকেল অফিসাররের পদ টি শূন্য রয়েছে। শূন্য রয়েছে জুনিয়ার কনসালটেন্ট সার্জারী; সিনিয়র নার্সের ২টি পদ, ৩ বছরের উচ্চতর প্রশিক্ষনে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট প্রেষনে অন্যত্র. আছেন, প্রধান সহকারি কাম হিসাব রক্ষক বিভিন্ন দুর্নীতি ও মামলা জনিত কারনে বরখাস্ত, অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর ২জন, ভান্ডার রক্ষক একজন, সহ সেবক একজন, স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ৩টি পদের ৩টি পদই , সহস্বাস্থ্য পরিদর্শক ৩টি পদের ২টি, স্বাস্থ্য সহকারির ৫০টি পদের ১১টি, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৩টি বয় পদের ২টি ও ঝাড়–দার ৫টি পদের ১টি ইউএসসি ৫টি এমএলএসএস পদের ১টি, ফার্মাসিষ্ট ১টি, উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) ২টি শুন্য রয়েছ্।ে হ্যাপি আক্তার নামে একজন উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) অনঅনুমোদিতভাবে অনুপস্থিত রয়েছেন। বিশ^স্ত সুত্র জানায়, হ্যাপি আক্তার বিবাহের পর স্বামী সাথে আমেরিকা প্রবাসী হয়েছেন।

এছাড়াও খালিয়া, ইশিবপুর, কবিরাজপুর, পাইকপাড়া ও বদরপাশা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারি সার্জনের (মেডিকেল অফিসার) ৫টি পদ, আমগ্রাম ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারি সার্জন অনঅনুমোদিতভাবে বছরাধিক কাল যাবৎ অনুপস্থিত রয়েছে। বিশ^স্ত সুত্র জানায়, তিনি সপরিবারে আমেরিকা প্রবাসি হয়েছেন্ ।

মাঝি ছাড়ার নৌকার মত পরিবার পরিকল্পনা বিভাগেও রয়েছে নানা সমস্যা। ২০০২ সালে রাজৈর উপজেলায় ২টি ইউনিয়নের অংশ বিশেষ নিয়ে হরিদাসদী মহেন্দ্রদী নামে একটি নতুন ইউনিয়ন গঠিত হয় । কিন্ত্র এ নতুন ইউনিয়নটিতে কোন নতুন প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন হয়নি। রাজৈর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে পরিবার পরিকল্পনা অফিসারের পদটি এবং ৫ বছরাধিক কাল সহকারী পরিবার পরিকল্পনা অফিসারের পদটিসহ পরিবার কল্যান সহকারী ৫৭টি পদের ২৯টি , পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা ১০টি পদে ২টি, পরিদর্শক ১০টি পদে ২টি পদ, দাই নার্স ও পিওন পদ শুন্য রয়েছে। নিজস্ব ভবন নেই, আছে শুধু একটি স্টোর রুম। এ জনবল সংকটের কারনে এ নতুন ইউনিয়নটিসহ অন্যান্য ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এ ছাড়াও নতুন এম্বুলেন্স রয়েছে দুটি । কিন্তু ড্রাইভার রয়েছে একজন। আরও বিস্ময়ের ব্যাপার হলো এম্বুলেন্স দুটি হলেও জালানী বরাদ্ধ রয়েছে একটির । ফলে দুটি এম্বুলেন্সের সুবিধা পাচ্ছে না এলাকাবাসী বা সুবিধাভোগী রোগীরা ।

সরবরাহকৃত মুল্যবান ও আধুনিক এক্সরে মেশিনটি রোগীদের কোন কাজেই আসে নি। “সরকারকে মাল দরিয়া মে ঢাল” প্রবাদ বাক্যটির মত মেশিনটি দীর্ঘ সাত বছরাধিক কাল বাক্সবন্ধি হয়ে পড়ে থাকার পর “জেনে শুনে বিষ করেছি পান” গানের মত ২০১৪ সালে ৪ জুন মুল্যবান এই এক্সরে মেশিনটি একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে স্থাপনের নিয়ম থাকলেও একটি স্যাতস্যাতে রুমে স্থাপন করা হয় । রুমটি এতটাই নাজুক যে ছাদ চুইয়ে ও ওয়াল বেয়ে পানি পড়ে, ওয়াল ফেটে গেছে, রং ও পলেষ্টার খসে পরেছে। ফলে স্থাপনের পর থেকেই মেশিনটি মাঝে মাঝে বিকল হয়ে যেত এবং গত ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বিকল হয়ে পড়ে আছে। মেরামতের জন্য বারংবারং চিঠি চালাচালি হলেও মেশিনটির ভাগ্য খুলেনি। মেশিনটি মেরামত করে জরুরীভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে স্থাপন করা না হলে মেরামত অযোগ্য হয়ে পড়বে। বর্তমানে হাসপাতালে আগত রোগীরা চিকিৎসাপত্র অনুয্য়াী নিকটস্থ ক্লিনিক থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এক্সরে কাজটি করে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

বিদ্যুতের লোড শেডিং এর সময় আলোর ব্যবস্থা করার জন্য স্বাস্থ্য ৭/৮ সালে জেনারেটরটি রাজৈর হাসপাতালে সরবরাহকরা হয় । কিন্তু জালানী তেলের বরাদ্ধ না থাকায় অগতির গতি একমাত্র জেনারেটরটি সরবরাহের পর থেকেই অচল হয়ে পড়ে আছে। আর এভাবে পড়ে থাকতে থাকতে জেনারেটরটি বর্তমানে নষ্ট হয়ে গেছে । ডাঃ ইউএইচএ প্রদীপ চন্দ্র মন্ডল জানান, মেরামত করে জেনারেটর চালু করা সম্ভব। জালানী তেলের বরাদ্ধ না দিয়ে জেনারেটর সরবরাহ করা একপ্রকার রসিসকতা করার সামিল বলে ভুক্তভোগীরা মন্তব্য করেন ।

১৪ বছর পুর্বে নির্মিত কমিনিউটি ক্লিনিকগুলি মেরামতের অভাবে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ভবনগুলির দেয়াল ও ছাদের পলেস্তার খুলে পড়ে গেছে। গেট ভেঙ্গে পড়েছে। প্রায় সকল কমিনিউটি ক্লিনিকের নলকুপ ও শৌচাগার অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ২১টি কমিনিউটি ক্লিনিকের ১৩টিতেই বিদ্যুত সংযোগ নেই।

রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ প্রদীপ চন্দ্র মন্ডল জানান, আমি ও আমার প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতি মুক্ত ঘোষনা করেছি। ৩১ বেডের ঘাটতি জনবল দিয়ে ৫০ বেডের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি এবং সমস্যা সমূহের মধ্য দিয়ে আগত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজনীয় জনবল পেলে রাজৈরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরো উন্নত করা সম্ভব হবে। হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান এর সভাপতিত্বে মাসিক সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান খানসহ সকল সদস্য উন্নীত ৫০ বেড হাসপাতালের অনুমোদন ও জনবল পদায়ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আবেদন জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *