রাজৈরের টেকেরহাট বন্দরে ঈদের কেনাকাটায় উপচেপড়া ভীড়

অন্যান্য টেকেরহাট রাজৈর

10 (1)
মোঃ ইব্রাহীমঃপবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে, ঈদ কেনাকাটায় ক্রেতাদের আর্কষণে ব্যাপক আলোকসজ্জা এবং মার্কেটের ভেতরে ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে দোকান গুলি। গতকাল শুক্রবার ২২ রমজানে মার্কেট ঘুড়ে দেখা যায় মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায়র টেকেরহাট বন্দরসহ হাট বাজারে জমজমাট ঈদ কেনাকাটা,ঈদের সামনে রেখে আর একটি শুক্রবার থাকলেও পোষাক কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতা ।

উপজেলার প্রধান বাজার টেকেরহাট বন্দর। এছাড়াও রাজৈর বাজার সহ হাট-বাজার গুলো জমজমাট ঈদের কেনাকাটা। মার্কেটের অধিকাংশ দোকানেই দেশি পোষাকের পাশাপাশি রয়েছে বিদেশী বাহারি পোশাক। শাহবুদ্দিন মোল্লা কমপ্লেক্স, আব্দুল আজিজ কমপ্লেক্স ও ফুটপাথের দোকানসহ শত শত দোকান। এছাড়াও প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড় আগরে তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সকল শ্রেণির ক্রেতা গার্মেন্টস ও জুতার দোকানে উপচেপড়া ভীড় চোখে পড়ার মত।দোকানগুলোতে সাজিয়ে রাখা নজরকাড়া পোশাক। বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে পুরুষের তুলনায় মহিলাদের পোশাক বেশি। কেউ কেউ পছন্দের পণ্যটি কিনে নিচ্ছে। আবার প্রিয়জনের জন্য পছন্দের পোষাক কিনতে ব্যাস্ত সময় পার করছে।

11
বিক্রেতারা সাথে কথা বলে জানাযায়, এবার তরুণীদের পছন্দে রয়েছে ভারতীয় গাউন, ব্রাইডার গাউন ও বাবড়ি ড্রেস, গাউন মেহজাবিন, গাউন বাঘী বাইশ ফুল, গাউন টপ, গাউন সাকিরা, কাপ ড্রেস,সুলতান সলেমান, ডালি, কহিনুর, র্বষা, জয়, গোল জামা ও থ্রিপিছ বিক্র হচ্ছে। এছাড়াও দেশি পোষাকের মধ্যে দু’পাট, আয়নাবাজি,পোষাকের অনেক নাম রয়েছে ও তরুণদের টি সার্ট , ব্রান্ডের প্যান্ট,বাবু জামাই। এ ছাড়া কয়েকটি নতুন ডিজাইনের পোশাক মার্কেটে শোভা পাচ্ছে। তবে আগরে তুলনায় পুরোদমে বিক্রি হচ্ছে।ধম ফেলানো যাচ্ছে না, বলে জানায় ব্যবসায়ীরা।

মোল্লা কমপ্লেক্সে ঈদের মার্কেট করতে এসেছে মিম আক্তার ইভা নামের এক তরুণী বলেন ঢাকার নামীদামি সপিং মলে যা পাওয়া যায় তা আমাদের এখানেও পাওয়া যায় । কিন্তু আমাদের এখানে দামটাও একটু কম ।

দিনগর থেকে শাহবুদ্দিন মোল্লা কমপ্লেক্সে এসেছেন অন্তরা আক্তার লিমা । তিনি বলেন, এ মার্কেটেই সব কিছুই পাওয়া যায় ।পছন্দ করে একটি পোশাক কিনেছি। তবে ভিড় থাকায় একটু কষ্ট হচ্ছে কিন্তু প্রিয়জনে নতুন পশাক কিন্তে আসছি। তাই কষ্ট হলেও আনন্দটা অনেক।

আব্দুল আজিজ কমপ্লেক্স আসা মিজানুর ইসলামের বলেন, এবার দেশি কাপড়ের ১ টি পাঞ্জাবি কিনেছি। দাম নিয়েছে ১৮০০ টাকা। একটি ব্রান্ডের একটি প্যান্ট কিনেছি । তার দাম ৩২০০ টাকা।

গোপালগঞ্জ জেলার সাতপাড় থেকে আসা সুমন সরদার বলেন , মার্কেটের দোকান গুলো ঘুরে পরিবারের সকলের কেনাকাটা হয়ে গেছে। আমার স্ত্রীর জন্য একটা শাড়ি কিনবো বলে ঘুরছি।

09 (1)
কাশেমপুর থেকে বাবা-মার সাথে আসা অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী হাবিবা বলেন,আমি দু’টি জামা কিনেছি,একটা গাউন ৫ হাজার টাকা ও বাবড়ি ড্রেস ৬৫০০ টাকা নিছে । এখন জামার সাথে মিলিয়ে একটা জুতা কিনবো তাই ঘুরছি।

সনিয়া বস্ত্রলয়ের মালিক সুরুজ বেপাড়ি বলেন, ঈদ উপলক্ষে সাউদ কাতান,বম্বে জামদানি, ঢাকাইয়া জামদানি,কুটম বাড়ি ও লেহেঙ্গা বিক্রি হচ্ছে বেশি।

শ্রীনদী থেকে আসা আয়শা আক্তার রুমির সাথে কথা বলে জানাযায়,আগের তুলনায় প্রতিটি কাপড়ের দাম অনেক বেশি,কিন্তু কি আর করার আছে ঈদ মার্কেট করতে হবেই দাম যাইহোক ।

বাবর মায়ের সাথে আসা আফরুজার জানায় ,নতুন জামা কিনে দিয়েছে বাবা আমি আরো জুতা,লিপিস্টিক ,চুড়ি,নেলপলিস,কানের দুল ও আইলেনার কিনবে বলে বাবার সাথে দোকান গুরছি।

রাদ-রাফ্যায়েদ ফ্যাশন এর মালিক মুরাদ মোল্লা বলেন, গতবারের তুলনায় এবার বিক্রি অনেক ভালো। সব ধরনের পোষাক তুলেছি দোকানে। দাম একটু বেশি। তবে ক্রেতারা সাধ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করছে। সকাল আটটা থেকে ক্রেতারা আসতে শুরু করে । রাত ০৯-১০ টা পর্যন্ত চলে বেচা কেনা ।
নাগরদোলা ফ্যান্টাস্টিক কালেকশ এর দোকানের মালিকরা জানায়,আমাদের দোকানে ছেলেদের দেশি পোষাকের থেকে ভারতীয় পোষাক বেশি বিক্রি হচ্ছে । বর্তমানে আমাদের দোকানে প্রতিদিন ১ লক্ষ ১৭৫ হাজার থেকে দু’লক্ষ টাকা বিক্রি হয়।

07
শাহবুদ্দিন মোল্লা কমপ্লেক্সের ম্যানেজার মো:সেলিম হোসাইন জানায়, আমাদের কমপ্লেক্সে প্রতিদিন প্রায় ১ কটি টাকার মত বিক্রি হয়। এই কমপ্লেক্সের দোকান গুলোতে দেশি-বিদেশি পোষাকসহ সব কিছু পাওয়া যায়।

রাজৈর থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল মোর্শেদ জানায়, বাজারে তিনস্তরের নিরাপত্তার জন্য আইন শৃংখলা বাহিনী জোড়দার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *